৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৫১ পি.এম

নেপাল-বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল

নেপাল-বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল

নেপালের কাঠমান্ডুতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করেছে অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আনফা)। সোমবার থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ১৭ থেকে ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে।

এমন সহিংস পরিবেশে বাংলাদেশ দলের শেষ অনুশীলন পর্বও বাতিল করা হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিকেল তিনটায় দশরথ রঙ্গশালায় দলের অনুশীলন হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর সোয়া দুইটার দিকে হোটেল থেকে বের হওয়ার আগমুহূর্তে নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাইরে যাওয়া নিরাপদ নয়।

এর আগে দুপুরে প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের কোচ ও খেলোয়াড়রা প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর বিভিন্ন রাজপথে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। ফলে পুরো শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

পরে সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসে নেপাল সরকার ও ফুটবল কর্তারা। সেখানেই বাংলাদেশ–নেপালের দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সামাজিক অস্থিরতা বড় কারণ
নেপালে চলমান উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সরকারের ২৬টি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (Facebook, WhatsApp, Instagram, X প্রভৃতি) বন্ধের সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের পরই রাস্তায় নামে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি নিউজ জানায়, নিহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন এবং আহত ১৪৫ জনের বেশি, যাদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশও রয়েছেন।

খেলাধুলায় প্রভাব
নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রীতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল হলেও বাংলাদেশ দল আপাতত কাঠমান্ডুতেই অবস্থান করছে। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। খেলোয়াড়রা আপাতত হোটেলে অবস্থান করছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাও সুরক্ষার মধ্যে রয়েছেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ স্থগিত নয়, বরং বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা এখনই দেখা যাচ্ছে না।