৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩৪ এ.এম

গাছে পেরেকবিদ্ধ ব্যানার-ফেস্টুন : পরিবেশের জন্য নীরব হত্যাযজ্ঞ

গাছে পেরেকবিদ্ধ ব্যানার-ফেস্টুন : পরিবেশের জন্য নীরব হত্যাযজ্ঞ

রাস্তাঘাট, হাটবাজার কিংবা শহরের মোড়ে দাঁড়ালে চোখে পড়ে গাছের গায়ে ঝোলানো ব্যানার-ফেস্টুন। রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ব্যবসায়িক প্রচারণার জন্য গাছের বুকে ঠুকে দেওয়া হয় অসংখ্য পেরেক। কয়েকদিন পর ব্যানার সরলেও গাছে রয়ে যায় মরিচাধরা পেরেক।

এই সামান্য কাজটি গাছের শরীরে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে। পেরেক ঢুকলে গাছের ভেতরের জাইলেম ও ফ্লোয়েম নষ্ট হয়, যেগুলোর মাধ্যমে পানি ও খাবার পরিবাহিত হয়। এতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, আয়ুষ্কাল কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ঝড়-বৃষ্টিতে দুর্বল গাছ ভেঙে পড়ে মানুষ ও সম্পদের ওপর প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা বলেন : গাছে পেরেক ঠুকে দিলে ক্ষতস্থানে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে। এতে গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায়।
পরিবেশ সংগঠনগুলোর মতে : গাছ কেটে ফেলা যেমন অপরাধ, গাছে পেরেক মারা তেমনি গাছ হত্যার শামিল।
বন ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী : গাছ ক্ষতিগ্রস্ত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশ্বের অভিজ্ঞতা
ভারত : দিল্লি ও মুম্বাইয়ে গাছে ব্যানার টাঙানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য স্থানীয় সরকার নির্দিষ্ট পোস্টার বোর্ড স্থাপন করে।
সিঙ্গাপুর : গাছে বা জনপরিসরে কোনো প্রকার ক্ষতি করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা। প্রচারণার জন্য ডিজিটাল বোর্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
ইউরোপের দেশগুলো : গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা রাস্তার অবকাঠামোতে কোনো ধরনের পোস্টার ঝোলানো যায় না। নির্ধারিত “প্রচারণা জোন” ব্যবহার করা হয়।

জনসচেতনতার প্রয়োজন
গাছ শুধু সবুজ নয়, জীবনরক্ষাকারী। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বছরে কয়েকজন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে। অথচ এক টুকরো ব্যানারের জন্য আমরা সেই গাছকে ধ্বংস করছি।

আমাদের বোঝা উচিত—
গাছ প্রচারণার বোর্ড নয়।
বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব (ডিজিটাল বোর্ড, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড, দেয়াল)।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।

জনগণের প্রতি বার্তা
একটি গাছ বাঁচানো মানে একটি প্রাণ বাঁচানো।
কয়েক দিনের প্রচারণার জন্য আমরা কি দশকের অক্সিজেন কেড়ে নিতে চাই?

 

লেখক : নওশাদ আনসারী, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক