নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আটকে পড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সরকার দলের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুর তিনটায় ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দলের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রাজধানী কাঠমান্ডুতে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সব ফ্লাইট বাতিল করে। ফলে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা এখনো টিম হোটেলে অবস্থান করছেন।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দলের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে নেপালের সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও টিম ম্যানেজার আমের খানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন।
এরই মধ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ–নেপালের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করেছে অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আনফা)। সোমবার থেকে কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১৪৫ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সহিংস পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ দলের শেষ অনুশীলনও বাতিল করা হয়। দুপুরে দশরথ রঙ্গশালায় দলের অনুশীলনের কথা থাকলেও নেপাল ফুটবল ফেডারেশন নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় হোটেল ছাড়তে নিষেধ করে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নেপাল সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো (Facebook, WhatsApp, Instagram, X ইত্যাদি) বন্ধের সিদ্ধান্তই এই বিক্ষোভের মূল কারণ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসে।
বর্তমানে বাংলাদেশ দল হোটেলেই অবস্থান করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাও সুরক্ষার মধ্যে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফেরার সময়সূচি চূড়ান্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।