দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা খেল সূচক। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (গতকাল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন দুটোই কমেছে। অপর বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে কিছুটা।
লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিট ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে ধস নামে সূচকে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৯ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৩৮ পয়েন্টে, যা আগের দিন ছিল ৫ হাজার ৬২৮ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ৩৯ দশমিক ২ পয়েন্টে নেমে ২ হাজার ১৫৩ পয়েন্টে। আর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২১ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ২০৪ পয়েন্টে।
সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক, স্কয়ার ফার্মা ও বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার।
ডিএসইতে এদিন মোট ১ হাজার ১৭৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কম (১ হাজার ৪০০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা)। এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৪০১টি সিকিউরিটির মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৬৮টির, কমেছে ৩০৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির।
খাতভিত্তিক অবস্থা
লেনদেনে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত (১২.৯%)। এর পরের অবস্থানে প্রকৌশল ও বস্ত্র (১০.২%), তথ্যপ্রযুক্তি (৮.৩%), ব্যাংক (৮.১%) ও জীবন বীমা (৭.৪%) খাত।
সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে প্রায় সব খাত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিরামিক খাত (–৩.৩%)। এছাড়া ভ্রমণ ও অবকাশ (–৩.২%), সাধারণ বীমা (–২.৮%) ও সিমেন্ট (–২.৫%) খাতে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। কেবল জীবন বীমা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সামান্য ইতিবাচক রিটার্ন (০.৩%) পাওয়া গেছে।
সিএসইর অবস্থা
চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচক পতনের মুখে পড়ে। দিনের শেষে সিএসসিএক্স ১২৭ দশমিক ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে। সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই কমে ১৫ হাজার ৫৭১ পয়েন্টে। তবে এখানে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১৬৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির।
বিশ্লেষকদের মন্তব্য
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতা থাকায় তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, ফলে সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।