১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১৫ পি.এম

সড়ক অবরোধে বিচ্ছিন্ন ২১ জেলা, অনিশ্চিত চাকরি প্রর্থীদের পরীক্ষা

সড়ক অবরোধে বিচ্ছিন্ন ২১ জেলা, অনিশ্চিত চাকরি প্রর্থীদের পরীক্ষা

রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন ২১ জেলা, ঝুঁকিতে হাজারো তরুণের ভবিষ্যৎ।

পরীক্ষার্থীদের কণ্ঠ
আগামীকাল রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) আয়োজিত সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা, সিনিয়র স্টাফ নার্স  নিয়োগ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা। কিন্তু এর আগের রাতেই দুঃস্বপ্নের মতো খবর—ফরিদপুর ও শরীয়তপুর অঞ্চলের সড়ক অবরোধে ঢাকার সঙ্গে অন্তত ২১ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো প্রার্থী আজ রাতেই ঢাকায় পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষা দিতে পারবেন না। বরিশালের এক পরীক্ষার্থী কাঁপা গলায় বললেন—
“মাসের পর মাস পড়ে এসেছি। রাত জেগে প্রস্তুতি নিয়েছি। অথচ এখন মনে হচ্ছে পরীক্ষা হবে না, জীবনটাই হয়তো ঝুঁকিতে যাবে।”
মাদারীপুরের এক তরুণী জানান, বিকল্প পথে লঞ্চ ধরে ঢাকায় আসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নদী পারাপারে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভিড় তার মনে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।
“যেভাবে দৌড়ঝাঁপ করছি, মনে হচ্ছে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ক্লান্তিতে অচেতন হয়ে যাব।”
এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তাদের চোখে ভেসে উঠছে ব্যর্থতার শঙ্কা, আর কানে বাজছে একই প্রশ্ন—“আমরা কি তবে পরীক্ষার বাইরেই বাদ পড়ে গেলাম?”

অভিভাবকদের উদ্বেগ
শুধু পরীক্ষার্থীরা নন, তাদের পরিবারের সদস্যরাও দিশেহারা। ফরিদপুরের এক অভিভাবক ক্ষোভ ঝাড়লেন—
“আমার ছেলে সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখে বইয়ের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করেছে। আজ যদি সে পরীক্ষাই দিতে না পারে, তাহলে কি এই ক্ষতি সরকার পূরণ করবে?”
অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অবরোধ পেরোতে গিয়ে প্রার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। ভাঙচুর, হামলা, দুর্ঘটনা—সব ধরনের ভয় তাদের গ্রাস করছে। এক মা চোখ মুছতে মুছতে বললেন—
“পরীক্ষা দিতে গিয়ে যদি সন্তানকে হারাই, তাহলে সেই চাকরির আর দরকার কী?”
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি জাতীয় পরীক্ষার আগে এ ধরনের পরিস্থিতি রাষ্ট্রের পরিকল্পনার ব্যর্থতা প্রকাশ করছে। তারা মনে করছেন, পরীক্ষার আগে পরিবহন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও বিশ্লেষণ
এতকিছুর পরও পিএসসি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পক্ষ থেকে এখনো পরীক্ষা পেছানোর কোনো ঘোষণা আসেনি। পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমতা ও ন্যায্যতা। কারণ, রাজধানীর আশেপাশের পরীক্ষার্থীরা সহজেই অংশ নিতে পারলেও ২১ জেলার হাজারো প্রার্থী কার্যত বাদ পড়বেন। এতে মেধাবী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে না।

অর্থনীতিবিদরা যুক্তি দিচ্ছেন, এ ধরনের সংকট শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, রাষ্ট্রেরও ক্ষতি। কারণ যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়লে রাষ্ট্রও সেরা দক্ষতা হারায়।

হাজারো তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকামুখী। কেউ নৌকায়, কেউ লঞ্চে, কেউবা মোটরসাইকেলে। প্রতিটি মুহূর্ত তাদের কাছে হয়ে উঠছে মৃত্যুঝুঁকির সমান। অথচ কোনো দিকনির্দেশনা নেই নিয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে।

এখন সবার চোখ এক প্রশ্নে— পিএসসি ও শিশু একাডেমি কি পরীক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাহ্য করে নির্ধারিত তারিখেই পরীক্ষা নেবে, নাকি শেষ মুহূর্তে হলেও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে?