স্টেডিয়াম ভরে গেছে প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকে। কারও মুখে উত্তেজনার হাসি, কারও চোখে স্বপ্ন। কিন্তু খেলা শুরু হতেই—
প্রথম ওভার… রান নেই।
দ্বিতীয় ওভার… রান নেই, অথচ দুই উইকেট চলে গেছে!
গ্যালারি থেকে যেন একটা দীর্ঘশ্বাস একসঙ্গে বেরিয়ে এলো— “এটা কী হচ্ছে?”
বাংলাদেশি দর্শকদের মুখ তখন হতাশার প্রতিচ্ছবি। ব্যাটসম্যানদের কাঁপা হাতে ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভয়। মনে হচ্ছিল, ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে আছেন না ব্যাটসম্যান, দাঁড়িয়ে আছেন শিকার হতে যাওয়া প্রহরীরা।
এমন সময় মঞ্চে এলেন লিটন দাস
একটা-দুটো বাউন্ডারি মারলেন, দর্শকের বুকেও ফেরত এল কিছুটা প্রাণ। কিন্তু আলোটা বেশিক্ষণ টেকেনি—হাসারাঙ্গার ঘূর্ণি আর চামিরার গতি মিলে লিটন-হৃদয়-মেহেদীদের ফেরাল দ্রুত।
৫৩ রানে ৫ উইকেট! গ্যালারি তখন যেন নিস্তব্ধ এক কবরখানা।
তবু গল্পের মোড় ঘোরাল দুজন যোদ্ধা—জাকের আলী আর শামীম হোসেন।
তারা খেললেন না যেন ক্রিকেট, খেললেন আশার খেলা।
প্রতিটা রান উঠছিল দর্শকের বুকের ধুকপুকুনির সঙ্গে তাল মিলিয়ে।
একটা ছক্কা উঠতেই দর্শকেরা চিৎকার করে বললেন, “হয়তো… হয়তো আজকেও কিছু একটা ঘটতে পারে!”
শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গেল রেকর্ড জুটি—৬১ বলে ৮৬ রান। গ্যালারি তখন একেবারে জেগে উঠেছে।
স্কোরবোর্ডে ১৩৯—টি-টোয়েন্টিতে অসম্ভব নয়।
শুরু হলো শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
প্রথমে মোস্তাফিজ শিকার করলেন মেন্ডিসকে। হঠাৎই আবার ভেসে এল আশার হাওয়া।
কিন্তু শরিফুলের বলে সহজ ক্যাচ ফেলে দিলেন মেহেদী—সেই সঙ্গে যেন মাঠে গড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশের সব আশা।
এরপর মিশারা-নিশাঙ্কার ব্যাট যেন তরবারি। প্রতিটি বাউন্ডারি যেন কেটে যাচ্ছিল বাংলাদেশের স্বপ্নের শরীর।
নিশাঙ্কা পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফিরে গেলেন, কিন্তু মিশারা রইলেন অপরাজিত। ছক্কা-চারের ঝড় তুলে তিনি একাই লিখে দিলেন ম্যাচের উপসংহার।
শেষ দৃশ্য—
স্কোরবোর্ডে জ্বলছে শ্রীলঙ্কার জয়, হাতে বাকি ৩২ বল।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা নিরুত্তর, গ্যালারির দর্শকরা নীরব।
মনে হচ্ছিল, এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎটাও যেন আলো-আঁধারির মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে।
ধারাভাষ্যের শেষ লাইন:
“প্রথম দুই ওভারের অন্ধকারটাই আজ পুরো ম্যাচটাকে গ্রাস করল। তবু লড়াইয়ের গল্পটা থাকবে—জাকের আর শামীমের নামেই।”