না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। তাঁর মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সামাজিকমাধ্যমে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহশিল্পীদের পাশাপাশি শোক জানিয়েছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান।
এক ফেসবুক পোস্টে শাকিব লিখেছেন, “লোকসংগীতের দেশবরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি ছিলেন আমাদের লালনগীতি, নজরুলসংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের এক উজ্জ্বল দীপ্তি, যাঁর কণ্ঠে ছিল বাংলার মাটি, মানুষের আত্মা ও সংস্কৃতির স্পন্দন। তাঁর অনন্য সাধনা ও সুরের ছোঁয়া আমাদের হৃদয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফরিদা পারভীন। রবিবার বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং মা–বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
বাংলাদেশে লালনসংগীত জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি লালন সাঁইয়ের গান ছড়িয়ে দিয়েছেন। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে পরিবেশনা করেছেন তিনি।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে একুশে পদক পান ফরিদা পারভীন। ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্র অন্ধ প্রেম–এর “নিন্দার কাঁটা” গানের জন্য শ্রেষ্ঠ নারী সংগীতশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে পান জাপানের মর্যাদাপূর্ণ ফুকুওয়াকা পুরস্কার।
লালনসংগীতের বাইরেও তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বহু আধুনিক ও দেশের গান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—“তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম” ও “এই পদ্মা এই মেঘনা”।