১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০৮ এ.এম

একসঙ্গে ৬ সন্তান জন্ম দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন প্রবাসীর স্ত্রী

একসঙ্গে ৬ সন্তান জন্ম দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন প্রবাসীর স্ত্রী

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের কাতার প্রবাসী মো. হানিফের স্ত্রী মোকশেদা আক্তার প্রিয়া (২৩) একসঙ্গে ৬টি সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে 'অলৌকিক ঘটনা' বলে অভিহিত করছেন এবং পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এর গাইনি বিভাগের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে প্রিয়ার ৬ সন্তানের জন্ম হয়। এর মধ্যে তিনজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে শিশু। জন্মের পরপরই একজন ছেলে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে ঢামেকের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ)। বাকি পাঁচজন অপরিপক্ক শিশু (প্রিম্যাচিওর) চিকিৎসাধীন, যাদের ওজন খুবই কম (প্রায় ৫০০-৮০০ গ্রাম)। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তিনজনকে ঢামেকের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে, আর বাকি দুজনকে বেডের অভাবে কাঁটাবনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মা প্রিয়া এবং বাকি শিশুরা স্থিতিশীল আছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র অনুসারে, উপজেলার খাজুরিয়া মধ্যপাড়া ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা প্রিয়ার গর্ভধারণের সময় ২৭ সপ্তাহ চলছিল। গত কয়েকদিন আগে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাম করে তারা জানতে পারেন যে গর্ভে পাঁচ সন্তান রয়েছে। কিন্তু জন্মের সময় ষষ্ঠ সন্তানটির অস্তিত্ব প্রকাশ পায়, যা চিকিৎসকদেরও অভাবিত ছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রিয়া তার বড় বোনের বাসায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় মনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শনিবার রাতে প্রসবের ব্যথা শুরু হলে জরুরিভাবে ঢাকায় নিয়ে এসে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
প্রিয়ার খালু বাবুল এবং ননদ ফারজানা আক্তার জানান, প্রিয়ার স্বামী মো. হানিফ কাতারে প্রবাসী এবং খবর পেয়ে দেশে ফিরছেন। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা সাধারণ, তাই চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য তারা স্থানীয় সাহায্যের আশা করছেন। 
ফারজানা বলেন, "আমাদের পরিবারে এমন ঘটনা কখনো হয়নি। এটি আল্লাহর রহমত, কিন্তু শিশুদের চিকিৎসা খুবই চ্যালেঞ্জিং।" এছাড়া, দুই বছর আগে প্রিয়ার একটি ছেলে সন্তান জন্মের তিন দিন পর মারা যায়, যা পরিবারের জন্য আরেকটি আঘাত ছিল।

ঢামেকের নবজাতক বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, "প্রিয়া স্বাভাবিকভাবে ছয় নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন। কিন্তু ২৭ সপ্তাহে জন্মের কারণে শিশুরা অপরিণত অবস্থায় এসেছে। তাদের ওজন খুব কম এবং দুজনের অবস্থা গুরুতর। আমরা নিবিড় পরিচর্যা দিচ্ছি, কিন্তু ঝুঁকি রয়েছে।" চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা বাংলাদেশে খুবই বিরল এবং মাতৃ-শিশু স্বাস্থ্যের জন্য সচেতনতা বাড়ানো দরকার।সেনবাগ উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা পরিবারের বাড়িতে ভিড় করেছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং স্থানীয় সাংসদের প্রতিনিধিরা পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং চিকিৎসা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও আলোচনা চলছে, যেখানে অনেকে এটিকে 'আশীর্বাদ' বলে মন্তব্য করছেন। পরিবারের সদস্যরা দোয়া করছেন যাতে বাকি শিশুরা সুস্থ হয়ে ওঠে।এই ঘটনা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে, বিশেষ করে প্রিম্যাচিওর বাচ্চাদের চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে। 

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, এমন বহুসন্তান জন্মের ঘটনা দেশে খুব কম ঘটে এবং এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের দিক থেকেও গবেষণার যোগ্য। পরিবারের প্রতি সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।