প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছেন। শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই পর্বটি শুধু সৌজন্যমূলক বার্তা নয়, বরং দুই দেশের জটিল কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
মোদির উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তায় ছিল প্রশংসা ও সহযোগিতার অঙ্গীকার। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দুর্দান্ত একটি ফোনালাপ হলো। আমি তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তিনি অসাধারণ কাজ করছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ মোদি।”
অন্যদিকে মোদি এক্স–এ জবাব দিয়ে লিখেছেন, “আপনার মতো আমিও ভারত–মার্কিন বিস্তৃত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। আমরা ইউক্রেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে সমর্থন করি।”
এই বার্তালাপ শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়; বরং এটি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক উষ্ণতা ও পারস্পরিক কূটনৈতিক হিসাবের প্রতিফলন।
তবে দুই দেশের এই কূটনৈতিক উষ্ণতার মাঝেও বাস্তবে বিরাজ করছে কঠিন বাণিজ্য সংকট। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ভারতীয় আমদানির ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। বিশেষভাবে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে—যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কঠোর বাণিজ্যিক শাস্তি।
এছাড়া মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, যদি ভারত মার্কিন ভুট্টা আমদানি না করে, তবে দিল্লি তার বৃহত্তম বাজার—আমেরিকায় প্রবেশাধিকার হারাতে পারে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই দুই দেশ মঙ্গলবার পুনরায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় বসেছে। ওয়াশিংটন আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছে। এটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত করছে যে, উভয় পক্ষ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে চাইছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পুনরায় সূচনা শুধু বাণিজ্য নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। চীনকে মোকাবিলা, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সহযোগিতা অপরিহার্য মনে করছে।
ভারত–মার্কিন সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বিস্তৃত বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য—এই চার খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই কাঠামো। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত মোদি–ট্রাম্প বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং সরবরাহ চেইনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত–মার্কিন সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনার ইতিবাচক সুর হয়তো সংকটের পুরো সমাধান নয়, তবে ভবিষ্যতের সহযোগিতার জন্য এটি একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, মোদির জন্মদিনে ট্রাম্পের শুভেচ্ছা কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়—এটি ভারত–মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করছে।