চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার যুক্ত রাধাকান্তপুর গ্রামের এক যুবক। নাম তার মিলন বাবু ওরফে মিলন মিয়া (৩০)। মাদক মামলায় আদালত তাকে দিয়েছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সঙ্গে অর্থদণ্ডও। কিন্তু রায় ঘোষণার দিন তিনি ছিলেন না আদালতে—ছিলেন অদৃশ্য, আত্মগোপনে। চার বছর ধরে নানা ছদ্মবেশে এড়িয়ে গেছেন পুলিশ, র্যাব, এমনকি স্থানীয়দের সন্দেহও। অবশেষে গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে তক্তিপুর ব্রিজ এলাকায় র্যাবের যৌথ অভিযানে ধরা পড়লেন তিনি।
মামলার শুরু থেকে রায়ের দিন পর্যন্ত
২০২১ সালে শিবগঞ্জ থানায় মাদক মামলা হয় মিলনের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই ছিলেন পলাতক। তবে বিচারকাজ থেমে থাকেনি। দেশের আইনে পলাতক অবস্থাতেও বিচার হতে পারে—এমন নজিরেই চলতে থাকে আদালতের কার্যক্রম। দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল রায় আসে—যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড।
কিন্তু তখনও তিনি অদৃশ্য, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, ভিন্ন ভিন্ন কাজ নিয়েছেন, এমনকি বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাড়িতেও থেকেছেন।
চার বছরের আত্মগোপন
গ্রামের লোকজনের কাছে মিলন ছিলেন ‘হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া এক তরুণ’। কেউ বলতেন তিনি ঢাকায়, কেউ শোনাতেন চট্টগ্রামে বা সীমান্তের কাছাকাছি কোথাও আছেন। র্যাব জানায়, ধরা না পড়তে তিনি মাঝে মাঝে ভিন্ন চেহারা ধারণ করতেন। তবে শেষ পর্যন্ত একটি সূত্র ধরেই তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তারের নাটকীয়তা
মঙ্গলবার বিকেল। তক্তিপুর ব্রিজ এলাকায় মিলনকে দেখা যায়। র্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প ও র্যাব-৪ মানিকগঞ্জ ক্যাম্প যৌথ অভিযান চালায়। মিলনের গতিবিধি আঁচ করে তাকে ঘিরে ফেলে সদস্যরা। পালানোর সুযোগ না দিয়েই তাকে আটক করা হয়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, আসামিকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনের ফাঁক গলে বাঁচা যায় না
মিলন মিয়ার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—আইনের চোখ এড়িয়ে সাময়িকভাবে পালানো গেলেও শেষ পর্যন্ত আইনের হাতে ধরা পড়তেই হয়। জনস্বার্থে র্যাব বলছে, এ ধরনের অপরাধীরা যতই সময় নিক, ন্যায়বিচার থেকে রেহাই নেই।