বরিশালের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: কবির হোসেন পাটোয়ারীর ১৭টি বিয়ের কেলেঙ্কারি দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বন বিভাগের পদের অপব্যবহার করে নারীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অভিযোগে তিনি তৃতীয়বারের মতো সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর অধীনে অসদাচরণের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বরিশাল থেকে রংপুরের বন বিভাগে সংযুক্ত থাকবেন এবং খোরপোশ ভাতা পাবেন।
কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিয়ের নামে প্রতারণা, যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত। তদন্তে তার ১৭টি বিয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে, যা ইসলামী শরিয়ার চারটি বিয়ের সীমা লঙ্ঘন করে। শরিয়া অনুযায়ী, একজন পুরুষ চারটি বিয়ে করতে পারেন, তবে সকল স্ত্রীর প্রতি সমান ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হয়। প্রতারণা ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে বিয়ে শরিয়ার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তদন্তে প্রমাণিত হলে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি গুরুতরভাবে দোষী, কারণ এটি শুধু শরিয়ার সীমা লঙ্ঘন নয়, মানুষের অধিকারের ওপরও আঘাত।এর আগে দুবার সাময়িক বরখাস্ত হলেও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির সুপারিশে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন। তবে এবারের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠনের পর যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে সরেজমিন তদন্তে ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। খুলনার খাদিজা আক্তার এবং বাগেরহাটের নাসরিন আক্তার দোলনের অভিযোগে প্রতারণা ও নির্যাতনের বিষয়টি উঠে আসে। ভুক্তভোগীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মঙ্গলবার বরিশাল মহানগর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। চাঁদপুরের মতলব থানার তুষপুর গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন এর আগে ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাটে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার এই কেলেঙ্কারি শুধু আইনি ও পেশাগত শৃঙ্খলার লঙ্ঘন নয়, বরং নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপরও গুরুতর আঘাত। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং আইনি প্রক্রিয়া তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তবে এই ঘটনা সমাজে নারী অধিকার এবং পদের অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কবির হোসেনের কর্মকাণ্ড শুধু সরকারি চাকরির নীতিমালা ভঙ্গ করেনি, বরং ইসলামী শরিয়ার নীতি এবং নারীদের প্রতি ন্যায়বিচারের মূল্যবোধকেও চ্যালেঞ্জ করেছে। তার বরখাস্তের সিদ্ধান্ত তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে, তবে এটি সমাজে দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।