সাজেকের রুইলুই পাহাড়ের কবরীড় বাঁক, যেখানে প্রতিটি মোড় যেন নিজস্ব কাহিনী বলে, সেখানে আজ দুপুরের রোদেও অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। সেই নীরবতা ছিন্ন হয় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শোকান্দিত ধ্বনিতে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুবেনা আক্তার পিংকি আর তাঁর সঙ্গী শিক্ষার্থীরা একটি চান্দের গাড়িতে রইলেন রাঙামাটির সাজেকের উদ্দেশ্যে। সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে রওনা হওয়া গাড়িটি পাহাড়ি পথের বাঁক-বদল ঘেঁষে এগোচ্ছিল। কিন্তু দুপুর দেড়টার দিকে হাউজপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর সময়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দেড়শ ফুট নিচের গভীর খাদে ধস নামে।
ভূমির সঙ্গে লড়াই করতে করতে গাড়িটি থেমে যায়, কিন্তু রুবেনা আর শিক্ষার্থীরা থেমে থাকতে পারেননি। ঘটনাস্থলে নিহত হন রুবেনা। আহত হন অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে ৪-৫ জনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয়রা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ মিলে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালান। আহতদের দীঘিনালা ও খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাজেক থানার ওসি কানন সরকার বলেন, “সাজেক যাওয়ার পথে এই সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। আমরা দ্রুত উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি।”
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাহাড়ি পথের ভগ্নাংশ, গাড়ির ধস, আহত শিক্ষার্থীদের কাঁপুনি—সব মিলিয়ে একটি ভয়াবহ চিত্র। কিন্তু এর মাঝেও ফুটে ওঠে মানুষের একাত্মতা—স্থানীয়রা, পুলিশ ও সেনাবাহিনী একত্রে চেষ্টা করছেন, যাতে বাঁচানো যায় প্রাণ।
শুধু রুবেনার পরিবার নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের হৃদয়ে শোকের ছায়া। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ও পর্যটকরা সতর্ক হবেন—পাহাড়ি পথের ঝুঁকি কখনও হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আনন্দের খোঁজেও কখনও জীবন হঠাৎ থেমে যেতে পারে। পাহাড়ের গম্ভীরতা, মানুষের দুর্বলতা এবং প্রাকৃতিক পথে চলার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে এক গভীর আবেগঘন পাঠ।