বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তুলে ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ—এই চারটি পদ্ধতির মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বুধবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ২৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ড. আলী রীয়াজ বলেন, “বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলেছেন—অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট কিংবা বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ—যেকোনো একটি বা একাধিক পদ্ধতি গ্রহণ করেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।”
কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি
কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো প্রসঙ্গে ড. আলী রীয়াজ জানান, “কোনো কার্যালয় যদি এক বছর ধরে চলে, সেটি গুটিয়ে তুলতেও সময় প্রয়োজন। মেয়াদের মধ্যেই যেন কাজ গুটিয়ে আনা যায়, সেজন্যই সরকারের পক্ষ থেকে মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে।”
এর আগে সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের স্বাক্ষরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কমিশনের পটভূমি
গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনকে প্রথমে ছয় মাস সময় দিয়ে ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রথম দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় আবারও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হলো।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।