যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে দেশটির আমদানি প্রায় ১২ শতাংশ বা ১০ বিলিয়ন ডলার কমে যেতে পারে। এতে প্রায় সব দেশের রপ্তানি হ্রাস পাবে। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো অবস্থায় থাকলেও রপ্তানি ধরে রাখা কঠিন হবে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের সহায়তায় করা এই গবেষণা গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উপস্থাপন করেন র্যাপিড চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ ও ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা।
গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের ফলে চীনের রপ্তানি কমতে পারে ৫৮ শতাংশ, ভারতের ৪৮ শতাংশ, ভিয়েতনামের ২৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২৭ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি কমতে পারে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
বিশেষ করে পোশাক খাতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পোশাক রপ্তানি কমতে পারে ৮২ শতাংশ, চীনের ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার রপ্তানি কমবে প্রায় ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ, আর পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি কমবে গড়ে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের পক্ষে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব নয়। উপরন্তু ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কের একটি অংশ শেয়ার করতে হবে বলে ক্রেতারা জানাচ্ছে। কিন্তু মাত্র ৪–৫ শতাংশ লাভে ব্যবসা করা অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এটি বহন করা অসম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট এইচএস কোডে ট্রাউজার ও সিনথেটিক পণ্যের শুল্ক আগে ছিল ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ, পাল্টা শুল্ক যোগ হওয়ায় তা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৮ শতাংশে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এসব পণ্য রপ্তানি কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
র্যাপিডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে বিভিন্ন দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নমুখী রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এতে ওই বাজারে পণ্যের দামে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা রয়েছে।