১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:১৬ এ.এম

ঢাকার বায়ুদূষণের ভয়াবহতা এবং বিশ্বের দূষিত ও পরিষ্কার শহর থেকে শিক্ষা

ঢাকার বায়ুদূষণের ভয়াবহতা এবং বিশ্বের দূষিত ও পরিষ্কার শহর থেকে শিক্ষা

ঢাকার বায়ুদূষণের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, যা শুধু স্বাস্থ্য নয়, জীবনযাপন, শিক্ষা, আবাসন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। ২০২৫ সালে ঢাকার AQI প্রায়ই ৩০০-এর উপরে উঠেছে, যা এটিকে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে নিয়ে যায়। PM2.5 কণার কারণে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে, যা বাংলাদেশে প্রতি বছর ৮০,০০০-এর বেশি অকাল মৃত্যুর কারণ। শিশু, বয়স্ক এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যা GDP-এর ১৭.৬% ক্ষতির জন্য দায়ী। দূষণ শিশুদের IQ কমায়, শিক্ষায় বাধা সৃষ্টি করে, এবং ডিপ্রেশন ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা বাড়ায়। স্লাম এলাকায় অস্বাস্থ্যকর আবাসন এবং দূষণজনিত ক্ষয় জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। এই পরিস্থিতি থেকে সজাগ হয়ে বিশ্বের দূষিত ও পরিষ্কার শহরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।

বিশ্বের শীর্ষ তিন দূষিত শহর: সতর্কতার আভাস
২০২৫ সালের IQAir রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের নিউ ডেলি, গ্রেটার নয়ডা এবং নয়ডা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। নিউ ডেলিতে PM2.5 মাত্রা ১০৮ µg/m³ এবং AQI ১৩৩, যা শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, প্রতি বছর ১ লক্ষের বেশি অকাল মৃত্যু ঘটায় এবং শিশুদের IQ ২০ মিলিয়ন পয়েন্ট হ্রাস করে। ট্রাফিক জ্যাম এবং দূষণ জীবনযাত্রাকে কঠিন করে, অর্থনৈতিক ক্ষতি GDP-এর ৮%। শিক্ষায় শিশুদের মনোযোগ হ্রাস পায়, স্কুলে অনুপস্থিতি বাড়ে, এবং স্লামে অস্বাস্থ্যকর আবাসন জীবনযাত্রার মান কমায়। মানসিক স্বাস্থ্যে ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ ২০-৩০% বৃদ্ধি পায়। গ্রেটার নয়ডায় শিল্প দূষণ শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা এবং সংক্রামক রোগ বাড়ায়, জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করে, এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দূষণের প্রভাবে পারফরম্যান্স কমে। আবাসনে নতুন ভবন হলেও ক্ষয় এবং স্লামের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সমস্যা বাড়ায়, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অভাবে ডিপ্রেশন বৃদ্ধি পায়। নয়ডায় দ্রুত নগরায়ণ সত্ত্বেও দূষণে হাঁপানি এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৫০% বেশি, জীবনযাত্রা অস্বাস্থ্যকর, শিক্ষায় শিশুদের মনোযোগ কমে, এবং আবাসনের অভাবে স্লাম বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যে অ্যাঙ্গজাইটি এবং গ্রিন স্পেসের অভাবে স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। এই শহরগুলোর অভিজ্ঞতা ঢাকাকে সতর্ক করে যে ব্রিক কিলন, ট্রাফিক এবং শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণ না করলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনীতির ক্ষতি অপরিবর্তনীয় হবে।

বিশ্বের শীর্ষ তিন পরিষ্কার শহর: ইতিবাচক আভাস
IQAir ২০২৫ অনুযায়ী, ক্যালগারি (কানাডা), হেলসিনকি (ফিনল্যান্ড) এবং অকল্যান্ড (নিউজিল্যান্ড) পরিষ্কার বায়ুর শীর্ষে। ক্যালগারিতে AQI ৫০-এর নিচে, পরিষ্কার বায়ু শ্বাসকষ্ট কমায়, গড় আয়ু ৮২ বছর, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সাপোর্ট (CMHA) ডিপ্রেশন হার ১০% এ রাখে। জীবনযাত্রায় আউটডোর অ্যাকটিভিটি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে, শিক্ষায় উচ্চ পারফরম্যান্স এবং কম অনুপস্থিতি, এবং সাপোর্টেড হাউজিং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর। হেলসিনকিতে WHO গাইডলাইন মেনে হার্ট ডিজিজ কম, সাইকেল-ফ্রেন্ডলি পরিবেশ এবং সবুজ স্পেস জীবনযাত্রাকে স্ট্রেস-মুক্ত রাখে। শিক্ষায় ৯০% লিটারেসি এবং মেন্টাল হেলথ ইন্টিগ্রেশন, এবং সাপোর্টেড হাউজিং রিহ্যাবিলিটেশনের জন্য ইকো-ফ্রেন্ডলি। মানসিক স্বাস্থ্যে ডিপ্রেশন হার ৫%, এবং টেকসই উন্নয়ন EU স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। অকল্যান্ডে পরিষ্কার বায়ু অ্যাজমা কমায়, কমিউনিটি হেলথ সার্ভিস শক্তিশালী, এবং জীবনযাত্রায় ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে। শিক্ষায় এনভায়রনমেন্টাল এডুকেশন এবং যুবকদের মানসিক সাপোর্ট, এবং প্যাসিফিক কালচারাল হাউজিং কমিউনিটি ইন্টিগ্রেশন বাড়ায়। মানসিক স্বাস্থ্যে পেনিনা ট্রাস্টের কালচারাল থেরাপি অ্যাঙ্গজাইটি কমায়। এই শহরগুলো ঢাকাকে দেখায় যে কঠোর পরিবেশ নীতি, সবুজায়ন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সেবা জীবনমান উন্নত করে। ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, সবুজ স্পেস এবং মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম চালু করলে পরিস্থিতি উন্নত হবে। IQAir-এর মতো মনিটরিং বাড়িয়ে এবং এই শহরগুলোর মডেল অনুসরণ করে ঢাকার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব।