১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৪ পি.এম

মানসিক চাপ শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে?

মানসিক চাপ শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে?

শারীরিক স্বাস্থ্য শুধুমাত্র খাদ্য বা ব্যায়ামের উপর নির্ভর করে না—এটি আবেগ ও মানসিক অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত। মানসিক চাপ, বিশেষ করে যেসব সম্পর্ক আবেগগতভাবে ক্ষতিকর বা অশুভাচারপূর্ণ, সেই সময় শরীরও অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকে। দুশ্চিন্তা, ডিহাইড্রেশন, অনিয়মিত ঘুম ও দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা এসবই সাধারণ ফল।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি ইন্সটাগ্রামে একটি ভিডিওতে এসব বিষয়ে সচেতন থাকার সহজ কৌশলগুলো শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, “সেলফ-কেয়ার স্বার্থপরতা নয়, এটি বাঁচার উপায়।”

১. পর্যাপ্ত জল পান করুন

চাপ শরীরকে দ্রুত ডিহাইড্রেট করে। মুখার্জি বলেন, “চিন্তার সময় আপনি অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব করবেন—অনেকেই পানি পান করা ভুলে যান।” এক বোতল পানি কাছে রাখুন এবং নিয়মিত পান করুন।

২. ফলমূল সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন

উচ্চ চাপের সময় রান্না বা খাবার প্রস্তুত করাও কঠিন মনে হতে পারে। তাই ফল ফ্রিজে রাখুন, যা সহজে গ্রহণযোগ্য ও দ্রুত পুষ্টি দেয়।

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন

আমলা ও হলুদের মতো রস দৈনিক ৬০ মিলিলিটার করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মুখার্জি। এগুলো প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে স্ট্রেসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

৪. প্রোটিন বাদ দেবেন না

প্রোটিন শরীরকে শক্ত রাখে ও মস্তিষ্ককে সচল রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৫০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের লক্ষ্য রাখুন। এটি ডিম, মাছ ও মুরগি থেকে পাওয়া যায়। প্রোটিন শরীরকে স্ট্রেস মোকাবিলায় সহায়তা করে।

৫. ঘুম ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করুন

মানসিক চাপের কারণে ঘুম প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ম্যাগনেশিয়াম গ্লাইসিনেট, মেলাটোনিন ও এল-থিয়ানিনের মতো সাপ্লিমেন্ট ঘুম ও মানসিক শান্তির জন্য সাহায্য করতে পারে।

৬. সহায়তার সিস্টেম গড়ে তুলুন

শারীরিক স্বাস্থ্য ও আবেগগত নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বন্ধু, আত্মীয়, থেরাপিস্ট বা হেল্পলাইন—যেকোনো সহায়তা নিতে দ্বিধা করবেন না।

অঞ্জলি মুখার্জি সতর্ক করেছেন, “আপনি নিজের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাই নিজের যত্ন নিন।”

দ্রষ্টব্য: এই তথ্য সাধারণ পরামর্শ প্রদান করছে। এটি চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পরামর্শের বিকল্প নয়। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।