২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৫৫ পি.এম

সংগ্রাম, ত্যাগ ও মমতার আলোয় আলোকিত এক নেত্রীর জীবনগাঁথা

সংগ্রাম, ত্যাগ ও মমতার আলোয় আলোকিত এক নেত্রীর জীবনগাঁথা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যাঁর নাম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগের সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গণতন্ত্র রক্ষা, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিকতায় অদম্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার শৈশব ছিল সাধারণ। কিন্তু তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হন। ১৯৮১ সালে স্বামীর শাহাদতের পর তিনি হঠাৎই রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করতে বাধ্য হন। তখন থেকে শুরু হয় তাঁর সংগ্রামী পথচলা।

১৯৮৩ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সরাসরি রাজনীতির মাঠে নেমে আসেন। সামরিক শাসন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিনি সাহসী নেতৃত্ব দেন। বারবার কারারুদ্ধ, গৃহবন্দী হওয়া সত্ত্বেও তিনি গণতন্ত্রের লড়াই থেকে সরে আসেননি। রাজপথে তাঁর উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করত, আর সাধারণ মানুষ তাঁকে দেখতেন আশার প্রতীক হিসেবে।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম মাইলফলক। সেই আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব জনগণকে একত্রিত করে এবং স্বৈরাচারের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষাখাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, মেয়েদের জন্য ভাতা প্রবর্তন এবং বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ।

গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর সময়কে উন্নয়নের ধাপ বলা হয়। তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মর্যাদার আসনে পৌঁছায়।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মায়ের মতো দাঁড়ানোই তাঁকে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ আসনে বসিয়েছে। ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে মানুষের খোঁজ নেন। সাইক্লোন ও ঘূর্ণিঝড়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেন। দরিদ্র শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী কিংবা নিঃস্ব পরিবার সকলের সহায়তায় তিনি ছিলেন নিঃশব্দ শক্তি।

তাঁর এই মানবিক কার্যক্রমই তাঁকে জনমনে "মানবতার মা" ও "মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করেছেন, নারী নেতৃত্ব শুধু সম্ভব নয়, বরং কার্যকরও হতে পারে। তাঁর নেতৃত্বে নারীরা রাজনীতিতে অংশ নিতে উৎসাহিত হয়, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার নারীনেত্রীদের মধ্যে অগ্রগণ্য।

রাজনীতির পথে খালেদা জিয়া অসংখ্যবার কারারুদ্ধ হয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থেকেছেন। ব্যক্তিগত জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি জাতির স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন; তিনি সংগ্রামী সাহস, আত্মত্যাগ ও মানবিকতার উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, রাজনীতি মানে মানুষের সেবা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবিকতার জয়গান।

আজও বাংলার সাধারণ মানুষ তাঁকে স্মরণ করেন একজন মমতাময়ী মা হিসেবে। আর ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে, "মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত" বেগম খালেদা জিয়া হিসেবে।

ঋণ-দৈনিক জনকণ্ঠ