logo
ads

ডাকসু নির্বাচন: অনলাইন জরিপ বনাম বাস্তব ভোট, কারচুপির অভিযোগ নাকি হারের অজুহাত?

নিপুণ চন্দ্র

প্রকাশকাল: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১৫ পি.এম
ডাকসু নির্বাচন: অনলাইন জরিপ বনাম বাস্তব ভোট, কারচুপির অভিযোগ নাকি হারের অজুহাত?

সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি কারচুপি ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। তবে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, প্রার্থীদের এই অভিযোগগুলোর একটি অংশ আসলে সম্ভাব্য পরাজয়ের দায় আগেভাগে চাপিয়ে দেওয়ার কৌশলও হতে পারে। ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম দলীয় জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা ৩৬ জুলাই বর্ষাবিপ্লবের ভূমিকা ও নারী ভোটব্যাংক নিয়ে বিজয়ী হলে অবাক হবো না। তবে ধর্মীয় রাজনীতি ফোবিয়ার সাথে রগকাটা শিবির অভিযোগ পেরিয়ে অনলাইন জড়িপে এগিয়ে থাকা সাদিক কায়েমকে নিয়ে আজকের অভিযোগ/অনুযোগ সত্য নাকি নিষ্কন্টক বিজয়ী হবার পথে কালিমা লেপনের চেষ্টা সেটা সময়ই বলে দেবে।

ছাত্রদল প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মধুর ক্যান্টিনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ ও বর্জন
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী তাহমিনা আক্তার এবং অদম্য ২৪-এর প্রার্থী নাইম হাসান ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে দুপুরেই নির্বাচন বর্জন করেন। তাহমিনা অভিযোগ করেন, অমর একুশে হলে পোলিং অফিসার ব্যালট পূরণ করে দিয়েছেন। অন্যদিকে নাইম দাবি করেন, আগে থেকে পূরণকৃত ব্যালট দিয়ে শিবির প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, “দুপুরের পর থেকে আমরা কারচুপির প্রমাণ পেয়েছি।” স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, শিবির প্রার্থীদের তালিকা ভোটারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

হারের অজুহাত নাকি বাস্তব অভিযোগ?
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন না হলেও এগুলোর মধ্যে পরাজয়ের দায় এড়ানোর পূর্বাভাসও লুকিয়ে থাকতে পারে। আবিদুল ও উমামা উভয়েই ভোটে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি। ফলে অভিযোগ তোলা তাদের জন্য একদিকে নৈতিক চাপ তৈরি করার কৌশল, অন্যদিকে পরাজয়ের ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর উপায়ও হতে পারে।

অনলাইন জরিপ ও বাস্তবতা
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু অনলাইন জরিপে ভিপি পদে বিভিন্ন প্রার্থী এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছিল। তবে এসব জরিপের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ সেখানে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বেশি হয়। বাস্তব নির্বাচনে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ভোটই হবে চূড়ান্ত নির্ধারক।

সম্ভাবনার চিত্র
অভিযোগ সত্ত্বেও উচ্চ ভোটার উপস্থিতি দেখাচ্ছে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব বেছে নিতে চাইছেন। শিবির প্রার্থী সাদিককে ঘিরে যেমন সম্ভাবনার আলোচনা হচ্ছে, তেমনি অভিযোগকারীদের কণ্ঠে হারের অজুহাত তৈরির প্রবণতাও স্পষ্ট হচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, ডাকসু নির্বাচন একদিকে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে অভিযোগ-প্রতিআরোপের মধ্যে ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে—এগুলো ছিল বাস্তব কারচুপির প্রতিফলন, নাকি হেরে যাওয়ার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা।

 

লেখক: নিপুণ চন্দ্র, মফস্বল সম্পাদক, দৈনিক বর্তমান বাংলা

এই বিভাগের আরও খবর

dainikamarbangla

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ