logo
ads

ফুটবল মাঠে নতুন শক্তির উৎস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৩২ পি.এম
ফুটবল মাঠে নতুন শক্তির উৎস

রয়টার্স

লারনাকা জেলার ছোট্ট একটি মিল থেকে শুরু হওয়া যাত্রা আজ ইউরোপের ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ভূমধ্যসাগরের সূর্যস্নাত ঢালে বেড়ে ওঠা অপরিপক্ক অলিভ থেকে তৈরি এই তেল দেখতে সাধারণ হলেও এর ভেতর লুকিয়ে আছে এক বিরল শক্তি—অত্যধিক পলিফেনল। বিজ্ঞানীরা বলেন, পলিফেনল হলো প্রকৃতির সেই অণু যা প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতার জন্য পরিচিত। আর ঠিক সেই কারণেই ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার থেকে শুরু করে ট্যুর ডি ফ্রান্সের সাইক্লিস্টদের হাতে হাতে এখন পৌঁছে যাচ্ছে এই ক্ষুদ্র সাইপ্রোট প্যাকেট।

মাঠের ভেতর ও বাইরে : প্রাক্তন ফিফা এজেন্ট নিক স্কিজাস একসময় খেলোয়াড়দের জন্য চুক্তি নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতেন। আজ তিনি খেলোয়াড়দের হাতে দিচ্ছেন এমন এক পণ্য, যা তাদের শরীরকে ফিরিয়ে দিচ্ছে নতুন প্রাণশক্তি। স্কিজাস বললেন, “খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণ শেষে ক্লান্ত হয়ে ফিরতেন, কিন্তু এই তেল খাওয়ার পর তারা নিজে থেকেই আরও চাইতে আসছিলেন। যেন শরীরের ভেতর কোথাও লুকানো স্প্রিং আবার চাঙা হয়ে উঠছে।”
তাঁর সঙ্গে আছেন মাটি প্রকৌশলী নিকোলাস নেতিয়েন, যিনি গবেষণার আলোয় দেখিয়েছেন—ওলিয়াফেন নামের এই অলিভ অয়েলে রয়েছে সাধারণ এক্সট্রা ভার্জিন তেলের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি পলিফেনল এবং ১০০ গুণ বেশি ওলিওক্যান্থাল। নেতিয়েন এই উপাদানকে বলেন “প্রকৃতির সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী প্রদাহরোধী।”

বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন : অলিভ অয়েল কোনো নতুন আবিষ্কার নয়। গ্রিস, সাইপ্রাস কিংবা ভূমধ্যসাগরের প্রাচীন সভ্যতায় এই তেল ছিল একাধারে খাদ্য, ওষুধ ও সংস্কৃতির অংশ। সেই পুরনো ঐতিহ্যের আধুনিক রূপায়ণই এখন ওলিয়াফেন। নেতিয়েনের ভাষায়, “এটি হাজার বছরের ঐতিহ্যের আধুনিক পুনর্জাগরণ।”
শুধু দাবিতেই থেমে নেই এই গল্প। সাইপ্রাসের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর ফুটবলারদের নিয়ে শুরু করছে ক্লিনিকাল গবেষণা, যেখানে দেখা হবে এই উচ্চ পলিফেনল সমৃদ্ধ তেলের প্রভাব কেবল শারীরিক পুনরুদ্ধারেই নয়, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ওপরও কেমন পড়ে।

উৎপাদনের নিখুঁত যাত্রা : লারনাকার সেই মিলের ভেতরে একেকটি অপরিপক্ক অলিভ পিষে ফেলা হচ্ছে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। ফলের ভেতরকার জৈব উপাদানগুলো ধরে রাখতেই এই যত্নশীলতা। সিউইড-ভিত্তিক সিঙ্গল-ডোজ পডে ভরে রাখা হয় তেলকে, যাতে বাতাসের সংস্পর্শে এসে অক্সিডেশন বা অপচয় না ঘটে। প্রতিটি পড যেন এক একটি সুরক্ষিত ভাণ্ডার, যার ভেতরে আবদ্ধ থাকে প্রকৃতির এক অনন্য শক্তি।

সম্ভাবনার দিগন্ত : রয়টার্সের প্রতিবেদনে যেমন উঠে এসেছে, নির্দিষ্ট দল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ না হওয়ায় কিছু যাচাই এখনও বাকি। তবে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্রীড়াবিদদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এই তেলের কার্যকারিতা নিয়ে আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলেছে। আগামী দিনগুলোতে স্বাধীন পরীক্ষাগার ও একাডেমিক গবেষণার ফলাফল হয়তো প্রমাণ করবে—সাইপ্রাসের পাহাড়ি জমিতে জন্ম নেওয়া এই তেল সত্যিই ক্রীড়াজগতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

খেলাধুলার জগতে শক্তি ও সহনশীলতা মানেই দীর্ঘ অনুশীলন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর বৈজ্ঞানিক সহায়তা। সেই তালিকায় এখন যুক্ত হচ্ছে সাইপ্রাসের এই পলিফেনল সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল। এটি শুধু এক বোতল তেল নয়—এ যেন ভূমধ্যসাগরের প্রাচীন ঐতিহ্যের সুগন্ধ মিশ্রিত আধুনিক বিজ্ঞানের এক অমূল্য উপহার, যা ফুটবল মাঠে এবং তার বাইরেও নতুন প্রেরণা জোগাচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

dainikamarbangla

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ