জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ২২৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা।
বুধবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিভিন্ন উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প
নারীর ক্ষমতায়ন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘তথ্য আপা’ প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন)।
শিক্ষা ও গবেষণা: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: ২০০০ হর্স পাওয়ার রিগ ক্রয়, শাহবাজপুর ও ভোলা এলাকায় কূপ খনন, নেসকো এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন।
বাণিজ্য: ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ (তৃতীয় সংশোধিত)।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র (তৃতীয় পর্যায়)।
বস্ত্র ও পাট: শেখ হাসিনা স্পেশালাইজড জুট টেক্সটাইল মিল এবং যমুনা স্পেশালাইজড জুট অ্যান্ড টেক্সটাইল মিল।
স্থানীয় সরকার: খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২), নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প।
বিমান পরিবহন: সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম সংশোধিত)।
গৃহায়ন: মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট।
এ ছাড়া ফসলের উৎপাদন ব্যয় জরিপ-২০২৫, সুনামগঞ্জে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পার্বত্য চট্টগ্রামে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণ, দেশের বীমা খাত উন্নয়ন, পিরোজপুর সার্কিট হাউস, রামু সেনানিবাসে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট, সিলেট সেনানিবাসে অফিসার্স বাসস্থান, উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা সেতুর কাছে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদিত হয়েছে।
সরকারের প্রত্যাশা
একনেক সভায় জানানো হয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, গবেষণা, বাণিজ্য, নারীর ক্ষমতায়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা—সব খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে গৃহীত এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং সামাজিক উন্নয়ন সূচকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


