বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শারীরিক শিক্ষা দফতরের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মোছা. ইরিনা নাহারকে স্নাতকোত্তরের জাল সনদ জমা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন হলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশিদ।
একই সঙ্গে কীভাবে তিনি জাল সনদ দিয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি পেয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইরিনা নাহারকে এর আগে ৭ দিনের সময় দিয়ে আসল সনদপত্র জমা দিতে বলা হলেও তিনি তা করতে ব্যর্থ হন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে তার জমাকৃত সনদ জাল প্রমাণিত হয়।
বেরোবির নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর পদে যোগদানের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং বিপিএড ডিগ্রি আবশ্যক। কিন্তু ইরিনা নাহার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছাড়াই ২০১২ সালের ১ মার্চ তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল জলিল মিয়ার অনুমোদনে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে একাধিকবার এ নিয়োগ নবায়ন হয় এবং ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ তাকে স্থায়ী পদে পদায়ন করা হয়।
জানা যায়, চাকরিতে যোগদানের ৯ বছর পর, ২০২২ সালে তিনি ব্যক্তিগত ফাইলে অন্তর্ভুক্তির জন্য বেসরকারি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত একটি স্নাতকোত্তর সনদ জমা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরে সেটিকে জাল বলে প্রমাণ করে। তবে সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ইরিনা নাহার বলেন, “আমি যে সার্টিফিকেট পেয়েছি, সেটাই দিয়েছি। আমি কি জানতাম এটা জাল না কি। এখানে আর কিছু বলার নেই।”


