logo
ads

রোহিঙ্গা সমস্যায় রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর বক্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:৩৭ পি.এম
রোহিঙ্গা সমস্যায় রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর বক্তাদের

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ সংলাপের আয়োজন করেছে নীতি গবেষণা কেন্দ্র। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব নয়; জনগণের ঐক্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমেই এই জটিল সংকটের রাজনৈতিক সমাধান বের করতে হবে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাম্প্লিফাইং দ্য রোহিঙ্গা ভয়েসেস অ্যান্ড অ্যাসপাইরেশন: অ্যা স্ট্রাটেজিক ডায়ালগ এহেড অব ইউএনজিএ ২০২৫’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ মত দেন। নীতি গবেষণা কেন্দ্র এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান জাতিসংঘ করতে পারবে না। জনগণের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও ঐক্যের মধ্য দিয়েই এই সংকটের রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিছক কারিগরি প্রশ্ন নয়; এটি রাজনৈতিক প্রশ্ন, তাই এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। ভারতের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা ও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ, আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা, নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর চাপ সৃষ্টির ওপরও তিনি জোর দেন। পাশাপাশি তিনি নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসন, নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের প্রধান পিটার কার্ন বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারে উদ্ভূত রাজনৈতিক সমস্যা। এর স্থায়ী সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত।” তিনি বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, অভূতপূর্ব সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও স্বীকৃতির দাবিদার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ সুফিউর রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ কমে যাওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট জটিল হচ্ছে। অর্থের ঘাটতির কারণে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা সীমিত হচ্ছে, বড় দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাও তেমন কার্যকর নয়।

সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের করণীয় হিসেবে প্রবন্ধে বলা হয়—আরাকান আর্মির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, রাজনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা, মাদক ও মানব পাচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সমাজে সমান অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক হিসেবে একীভূত করা ও দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাবও রাখা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম হক।

এই বিভাগের আরও খবর

dainikamarbangla

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ