রাজধানী কাঠমান্ডু—সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন এক শহর। এবারই প্রথমবারের মতো এখানে এলাম বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ফিফার দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ কাভার করতে। শুক্রবার রাতে কাঠমান্ডু পৌঁছাই আমরা, উঠি থামেলের ঢাকা এক্সপ্রেস হোটেলে।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেগে ওঠা থামেল সাধারণত পর্যটকে ভরা থাকে। লাল-নীল আলোয় আলোকিত রাস্তায় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে চারপাশ। কিন্তু মঙ্গলবারের থামেল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। দোকানপাটের সাটার নামানো, হোটেলের ঝাপ বন্ধ। রাস্তায় টায়ার জ্বলছে, শোনা যাচ্ছে স্লোগান। উৎসবের নগরি পরিণত হয়েছে স্লোগানের নগরিতে।
সোমবার রাতে জনমানবহীন হয়ে পড়ে শহর। ভোর হতেই শুরু হয় ‘কেপি অলি মুর্দাবাদ’ স্লোগান। রাস্তায় আগুন জ্বালানো, প্রতিবাদী তরুণদের বিক্ষোভ—চারদিক উত্তপ্ত। এমনকি থামেলের বাসিন্দারাও বিল্ডিং থেকে চেয়ার ফেলে আগুন জ্বালাতে সহায়তা করছিলেন। জরুরি কিছু প্রাইভেট গাড়ি ছাড়া সড়ক প্রায় ফাঁকা।
বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে সতর্কবার্তা দিয়েছে—নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের হোটেল বা রুম থেকে না বের হওয়ার জন্য। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ থেকে কোনো বিমানও উড়ছে না। জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ফোন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে।
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্সসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমেছে। লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগও এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিক্ষোভ ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সারা নেপালে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পদত্যাগের দাবিতে শুরু হয় এক দফা আন্দোলন। আগের দিন পার্লামেন্ট ভবনের সামনে সংঘর্ষে ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে কাঠমান্ডুসহ আশপাশের শহরগুলো। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনেই প্রথমে কৃষিমন্ত্রী, পরে প্রধানমন্ত্রী কেপি অলি পদত্যাগ করেন। এর আগের দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও পদত্যাগ করেছিলেন।
পদত্যাগের ঘোষণার পর রাস্তায় নেমে উল্লাস করে ছাত্র-জনতা। থামেলের পাশের থানায় এবং প্রধানমন্ত্রীর ভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকলেও পরিস্থিতির ভেতরেই আমাদের সাথে দেখা করেছেন নেপালের বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রজ্জ্বল অলি। তিনি সময় দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন।
এদিকে চলমান অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ ফুটবল দলের মঙ্গলবারের নির্ধারিত ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।


