logo
ads

“নগদ কমাতে আসছে একীভূত তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম”

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:২২ পি.এম
“নগদ কমাতে আসছে একীভূত তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম”

‘স্টেকহোল্ডার ডিসকাশন অন ইন্টারঅপারেবল পেমেন্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর

প্রতিবছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে নগদের চাহিদা বাড়ছে বাংলাদেশে। এই প্রবণতা কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এতে দেশের সব ব্যাংক, এমএফএস, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল ব্যাংক যুক্ত হয়ে নগদনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল লেনদেনে রূপান্তরের পথ তৈরি করবে।

আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত “স্টেকহোল্ডার ডিসকাশন অন ইন্টারঅপারেবল পেমেন্টস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান
গভর্নর বলেন, দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল ব্যাংক এই একক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে। এতে যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো সময় দেশের ভেতরে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, ‘নগদনির্ভর অর্থনীতি আমাদের জন্য ব্যয়বহুল। ব্যাংকিং খাতকে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ও সরকারকে প্রায় দেড় লাখ কোটি (১.৫৩ ট্রিলিয়ন) টাকার রাজস্ব হারাতে হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে নগদ ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনে যেতে হবে।’

গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তা
গভর্নর জানান, ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম চালু করতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার কার্যকর একটি সিস্টেম চালুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও নারীর অংশগ্রহণ
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ আর্থিক খাতের আওতায় এসেছে। তবে এখনো ৩৫–৪০ শতাংশ মানুষ বাইরে রয়ে গেছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, শুধু সংখ্যা নয়, বরং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে আরও গভীরভাবে আর্থিক খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ এজেন্ট নারী হতে হবে। নারীরা সহজে গৃহিণী, কন্যা বা শাশুড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন—এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।

কিউআর কোড ও ক্ষুদ্রঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সব ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী দোকানে কিউআর কোড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে দোকান, রেস্তোরাঁ কিংবা বাজারে নগদ তোলার প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট করা যাবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্রঋণের সীমা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হবে বলে জানান গভর্নর।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার সহজ হচ্ছে
গভর্নর বলেন, ‘আগে ক্রেডিট কার্ড পেতে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক ছিল, কিন্তু এখন তা বাতিল করা হয়েছে। এতে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করছি।’

এই বিভাগের আরও খবর

dainikamarbangla

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ