সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে। গত আগস্টে সরকারের বেসরকারিভাবে ৫ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ২–৪ টাকা কমেছে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৬–৮২ টাকা কেজিতে (গত সপ্তাহে ৮০–৮৬ টাকা), মিনিকেট চাল ৭৪–৭৯ টাকা, মাঝারি মানের ব্রি-২৮ চাল ৫৯–৬১ টাকা, পাইজাম চাল ৫৯–৬০ টাকা, এবং স্বর্ণা ও গুটি চাল ৫২–৫৪ টাকা কেজি দরে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকার চাল আমদানি করে সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নাগালের মধ্যে রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে। ২৪২টি প্রতিষ্ঠান বাছাই করে ৫ লাখ টন চাল আমদানি করা হচ্ছে, পাশাপাশি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে আরও ৪ লাখ টন চাল ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
সবজি ও নিত্যপণ্যের বাজারও স্থিতিশীল
শীতকালীন সবজি আসা শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। দেশি শশা ৬০–৭০ টাকা, বেগুন ৮০–৯০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, দেশি গাজর ১০০–১১০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০–১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পটল ও কাকরোল ৭০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, টমেটো ১৪০–১৫০ টাকা, সিম ১২০–১৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৮০–২০০ টাকা, জালি কুমড়া ও লাউ ৬০–৭০ টাকা কেজি দরে।
মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল
মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩২০–৩৫০ টাকা, পাঙাস ২০০–২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০–২৫০ টাকা, কৈ ২৮০–৩৫০ টাকা, শিং ৬০০–৭০০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০–৭৫০ টাকা, ইলিশ মাছ ২১০০–২২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ডিম প্রতি ডজন ১৩০–১৩৫ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০–১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০–৩৩০ টাকা। গরুর মাংস ৭৫০–৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১১৫০–১২০০ টাকা কেজি।
ক্রেতা-বিক্রেতার মতামত
শিক্ষার্থী আল সাদী বলেছেন, “আমরা সীমিত বাজেটে কিছু কিনতে পারি। চালের দাম সামান্য কমেছে, তবে দামের নিয়ন্ত্রণ রাখতে সরকারকে আরও সচেতন থাকতে হবে।” নিউ মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী নাদিম মুন্সী বলেন, “সরকারের আমদানি অনুমতির কারণে বাজারে দাম কমেছে। ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে।”


