ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আদর্শিক ও মানসিক ঘাটতি বাড়ছে, অথচ সরকার এ বিষয়ে উদাসীন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গানের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দিলেও ধর্মীয় শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। মানুষের প্রত্যাশা হলো—ছোটবেলা থেকেই সন্তানরা ইসলামের শিক্ষা পাক। তাই দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন প্রজন্ম গড়তে অবিলম্বে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় দেশের মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার ঢাকার কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজীল।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও তা হতে হবে সুশিক্ষা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ ইসলামের প্রতি মানসিকভাবে প্রস্তুত। উলামায়ে কেরামকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস না রেখে যারা মৌলবাদ বিরোধী হুমকি দেয়, তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা শোভন নয়।
সেমিনারে শীর্ষ আলেমরা সরকারের প্রতি একই দাবি জানান। বক্তব্য রাখেন মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আহমাদ আবদুল কাদের, মাওলানা জালাল উদ্দীন, মাওলানা হাসান জামিল, ড. খলিলুর রহমান মাদানীসহ দেশবরেণ্য আলেমরা।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম ও ড. মাওলানা ইউসুফ সুলতান। শেষে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, আগামী শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।


