রাতের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে কোটালীপাড়া পৌরসভার সরু রাস্তা জুড়ে। মসজিদের ধূসর দেয়ালে আলো পড়ছে, নামাজ শেষ হওয়া মুসল্লিরা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন। বাতাসে মধুর নীরবতা ভেসে আসছে, তবু সেখানে মানুষের হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছে এক বিশেষ বার্তার জন্য।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা আমির অধ্যাপক রেজাউল করিম। তার কণ্ঠে ঝরে পড়ছিল সেই বার্তা, যা শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা নয়—মানুষের হৃদয়ে শান্তি ও একাত্মতার সুর বাজাচ্ছিল: “আমরা সবাই বাংলাদেশী। এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নই।”
রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল শব্দগুলো। তারা যাঁরা পাশের দোকানে কাজ করছেন, যারা বাজারে হাঁটছেন, বা পথচারী হিসেবে চলেছেন—সবার কানে পৌঁছাল। অধ্যাপক রেজাউল করিম আরও বলেন,
“দুর্গাপূজায় আপনারা নির্বিঘ্নে, নির্ভয়ে, শঙ্কামুক্তভাবে উৎসব পালন করুন। আমরা আপনার পাশে থাকবো।”
শব্দগুলো যেন বাতাসে মিলিত হয়ে প্রতিটি হৃদয়ে পৌঁছে যাচ্ছে, একটি অদৃশ্য সুরক্ষা ছড়িয়ে দিচ্ছে—যে কোনো ধর্মের মানুষ এখানে নিরাপদ।
মানুষের ভিড়ে মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় নেতারা, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী—সবার চোখে একই আশার দীপ্তি। রাস্তাঘাট, বাজার, মোড়—সবখানেই বার্তাটি প্রবাহিত হচ্ছে। মানুষের হাতে হাত রেখে কথাগুলো শোনানো হচ্ছে: “সৎ লোকের শাসন চাই, আল কোরআনের আইন চাই।”
রাত গভীর হচ্ছে, তবে আলো—ল্যাম্প পোস্ট, দোকানের আলো, ফাঁকা গলির ছায়া—সব মিলিয়ে যেন জীবন্ত একটি ছবি তৈরি করছে। মানুষের চেহারায় ফুটে উঠছে আশা, মুখে হাসি, চোখে দৃঢ় সংকল্প। তারা অনুভব করছে, বাংলাদেশ শুধু প্রশাসনের নয়—দেশ আমাদের সবার।
অধ্যাপক রেজাউল করিমের কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠল সেই দৃঢ় বিশ্বাস, “বাংলাদেশ কারও একার নয়। এখানে আমরা সবাই সমান। শান্তি, সম্মান, এবং মানবতার বন্ধনেই গড়ে উঠুক আমাদের সমাজ।”
রাতের নিস্তব্ধতায় এই বার্তাটি মানুষের মনে চিরস্থায়ী হয়ে যায়। তারা জানে, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি—সবকিছুই এখানে সম্মানিত। আলো-ছায়ার মাঝে, শান্তির বাতাসে, মানুষের হৃদয়ে জন্ম নিচ্ছে এক অদৃশ্য বাঁধন, যা তাদের একসাথে রাখবে—চিরকাল, বাংলাদেশে।


