logo
ads

‘পিআর পদ্ধতিতে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৯ এ.এম
‘পিআর পদ্ধতিতে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকে না’

ফাইল ছবি

প্রোপোর্শনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) বা সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি হলো এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন পায়। এই পদ্ধতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নির্বাচনী ন্যায্যতা ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে পারে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট চরিত্রের সরকার তৈরি এবং এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকে না। প্রতিটি ভোটারের ভোটের মূল্যায়ন হয়। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির সংসদে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।” তিনি মঙ্গলবার ঢাকা-৯ আসনের বাসাবো খেলার মাঠে এক গণসমাবেশে এসব কথা বলেন। 

পিআর পদ্ধতি নির্বাচনে সুষ্ঠু ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে, যা বাংলাদেশের মতো বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতি ছোট ও মাঝারি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সংসদে আসন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে, যা প্রচলিত ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) পদ্ধতিতে প্রায় অসম্ভব। মুফতি রেজাউল করিমের মতে, এটি ফ্যাসিস্ট চরিত্রের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কমায়, কারণ কোনো একক দল সহজে একচেটিয়া ক্ষমতা দখল করতে পারে না। এই পদ্ধতি ভোটের অপচয় রোধ করে, কারণ প্রতিটি ভোট আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলে। ফলে, প্রতিটি ভোটারের কণ্ঠস্বরের মূল্যায়ন হয় এবং সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, নারী, এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ পায়। এটি রাজনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়ায় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মতামতকে সংসদে তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-৯ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহ ইফতেখার তারিকের মতো নতুন মুখের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া, পিআর পদ্ধতি জোট সরকার গঠনের প্রবণতা তৈরি করে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে, ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা 

পিআর পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি প্রায়শই জোট সরকারের দিকে নিয়ে যায়, যা দলগুলোর মধ্যে মতৈক্যের অভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। ছোট দলগুলো তাদের ভোটের অনুপাতের তুলনায় অতিরিক্ত ক্ষমতা পেতে পারে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এছাড়া, এই পদ্ধতিতে ভোটারদের সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরাসরি সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে, কারণ প্রার্থীরা নির্দিষ্ট এলাকার পরিবর্তে দলীয় তালিকার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। এটি জবাবদিহিতার অভাব ঘটাতে পারে। তাছাড়া, পিআর পদ্ধতি জটিল হতে পারে, যা ভোটারদের জন্য বোঝা কঠিন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের মতো দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, বৈচিত্র্য, এবং সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মুফতি রেজাউল করিমের বক্তব্য অনুসারে, এটি ফ্যাসিস্ট শাসনের সম্ভাবনা কমায় এবং প্রতিটি ভোটের মূল্যায়ন করে। তবে, এর জটিলতা ও সম্ভাব্য অস্থিরতা বিবেচনা করে সঠিক বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং অপরাধীদের বিচারের দাবির সঙ্গে পিআর পদ্ধতির সমন্বয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও গণতান্ত্রিক করতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

dainikamarbangla

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ